ভোটের আবহে শহরের রাজনীতিতে উত্তাপ নতুন কিছু নয়। কিন্তু কখনও কখনও সেই উত্তাপ এমন জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই উঠতে শুরু করে প্রশ্ন। বুধবার ভবানীপুরে যা ঘটল, তা শুধুই রাজনৈতিক সংঘাত নয় বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থাপনা নিয়েও তৈরি হয়েছে বড়সড় বিতর্ক। ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা বেড়েছে, আর সেই তৎপরতার ফলেই সামনে এল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
বুধবার ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনটি ছিল রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাজরা মোড় থেকে শুরু হওয়া রোড শো শহরের অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা কালীঘাট হয়ে এগোয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। স্বাভাবিকভাবেই বিশাল জনসমাগম এবং রাজনৈতিক আবেগ মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।
মিছিল যখন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি পৌঁছয়, তখনই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় তৃণমূল সমর্থকেরা কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। অন্যদিকে বিজেপি কর্মীরাও স্লোগান দিতে থাকেন। দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা, তারপর তা ধস্তাধস্তিতে গড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও, পরিস্থিতি সামাল দিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পরপরই নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে। পরদিনই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। একইসঙ্গে কালীঘাট ও আলিপুর থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের হয় এবং তার ভিত্তিতে এফআইআরও নথিভুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুনঃ আইনজীবী থেকে কালিয়াচকের হিং*সাত্মক আন্দোলনে উসকানির অভিযোগ, কে এই মোফাক্কেরুল ইসলাম?
এই ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নেয় লালবাজার। দায়িত্বে থাকা দুই ডেপুটি কমিশনার দক্ষিণ বিভাগের সিদ্ধার্থ দত্ত এবং রিজার্ভ ফোর্সের মানস রায়কে শো কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছে। কেন ওই পরিস্থিতি তৈরি হল, কীভাবে এত বড় জমায়েত নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেল এই সমস্ত প্রশ্নের জবাব চাওয়া হয়েছে তাঁদের কাছে। সূত্রের দাবি, অনুমতি থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় ফাঁক ছিল, সেটাই এখন প্রশাসনের মূল খতিয়ে দেখার বিষয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট, নির্বাচনের মুখে কোনও গাফিলতি মেনে নিতে রাজি নয় প্রশাসন।





